October 14, 2026, 12:26 am
পঞ্চাশ বছর পূর্তি ও বিদায়ী বছরের শেষ দিকে এসে সুখবর পেল বাংলাদেশ। বলা হচ্ছে, এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম বড় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪২তম।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিক্স এন্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) তাদের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২২’ নামের এই প্রতিবেদনটি রোববার প্রকাশ করা হয়।
এতে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে, তারই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সিইবিআর প্রতিবছর এই রিপোর্ট প্রকাশ করে।
সংস্থাটি বলছে, ১৫ বছর পর ২০৩৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার আড়াই গুণের বেশি বেড়ে ৮৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের হবে। বর্তমান বিনিময়হার হিসাবে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকার ৩২৫ বিলিয়ন ডলার।
বিস্ময়কর হচ্ছে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এমন আরও কয়েকটি দেশকে পেছনে ফেলে সামনের সারিতে চলে আসবে বাংলাদেশ।
প্রতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করে সিইবিআর। এবার ১৯১টি দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে তারা। এ বছর বাংলাদেশের বিষয়ে তারা বলছে, কোভিড–১৯ মহামারি সত্ত্বেও এ বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকুচিত হবে না।
সিইবিআর বলছে, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৪২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে হবে ৪১তম। আর অর্থনীতির এই গতিশীলতা ধরে রাখা গেলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ৩৪তম, ২০৩১ সালে ২৯তম এবং ২০৩৬ সালে হবে ২৪তম।
২০২২ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৯১টি দেশের অর্থনীতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে আগের কয়েক বছরে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫৮তম। ২০১১ সালে ছিল ৫৯তম এবং ২০১৬ সালে ছিল ৪৬তম।
এই চিত্রই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা এবং প্রবৃদ্ধিতে ধারাবাহিকতার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর বলা হয়েছে, ‘এ কারণেই আমরা বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছি।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে দেশটি চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ঘাটতি ধরে বাজেট ঘোষণা করেছে।
‘অন্যদিকে, কোভিড-১৯ মৃত্যুর হার বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম লক্ষ্য করা গেছে বাংলাদেশে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে অন্তত একটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।’
এই দেশের টিকাদান অভিযানকে বিশ্বমানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছে সিইবিআর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকের (আরএমজি) ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে এই খাত থেকে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা আসছে। এ ছাড়াও, তথ্য ও যোগাযোগে দক্ষ কর্মীর দ্বারা পরিচালিত দেশটির টেলিযোগাযোগ শিল্পে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবেশ করছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে গত কয়েক বছরে চীন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। এর ইতিবাচক ফল দেশটি ভবিষ্যতে পাবে।
১৫ বছরেই ২৪তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতে চীন-ভিয়েতনামকে টপকে গেছে বাংলাদেশ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, করোনভাইরাস মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় একটি বিরল অর্জন। এটি শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি পুনরুদ্ধারের কারণে হয়েছে।
সিইবিআর বলছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হবে।
তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করার সময় অর্থনীতি একাধিক বাধার সম্মুখীন হতে পারে। কারণ এই দেশটি এখনও তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে পারেনি।’
২০০৯ সালে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ভারত দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটি বিশ্ব অর্থনীতির তৃতীয় স্থান দখল করবে এমন পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান (৪৬তম)। এরপর যথাক্রমে- শ্রীলঙ্কা (৬৯তম), নেপাল (৯৯তম), মালদ্বীপ (১৫৪তম) এবং ভুটান (১৬৪তম)।